নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা : মূল আসামি নূরাসহ ৭ আসামি রিমান্ডে
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার হাত থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৭ আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদলতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরী আমেনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে সোপর্দের পর ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাধবদী থানার পুলিশ পরিদর্শক ওমর কাইয়ুম। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে নরসিংদী জজ কোর্টের ২য় জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান ৭ আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এই ঘটনায় আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম বলেন, মামলার এজহারের প্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজন এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশ বৈঠকের বিচারক ও সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জনসহ ৭ আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পলাতক বাকি দুই আসামিকেও দ্রুতই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুইয়া বলেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মামলায় কোনো আইনজীবী আসামি পক্ষকে আইনি সহায়তা দেবে না, রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করবে। পুলিশ আন্তরিক হয়ে মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দিলে ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর মাধবদীতে বাবাকে ছুরির মুখে জিম্মি করে আমেনা নামে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার সঙ্গীরা। পরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখে। এঘটনায় ধর্ষক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে প্রধান আসামি করে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের মা ফাহিমা বেগম। এঘটনায় পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী