চড়ের প্রতিশোধ নিতেই জোড়া খুন!
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদি সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শরীফ সম্পর্কে নিহত কিশোরীর প্রতিবেশী চাচা এবং পেশায় ট্রাকচালক।
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে শরীফ জানান, শ্লীলতাহানির চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়া এবং কিশোরীর হাতে চড় খাওয়ার অপমানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই জোড়া হত্যা করেছেন। নিহত জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ আরও জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যান। জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের প্রয়োজনে সাভারে বড় মেয়ের বাড়িতে থাকায় বাড়িতে জামিলা ও তার দাদি সুফিয়া খাতুন থাকতেন। ঘটনার রাতে দাদি বাড়িতে না থাকার সুযোগে শরীফ জামিলাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় কিশোরী জামিলা তাকে চড় মারে। এই ঘটনায় প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করেন শরীফ।
সেই ক্ষোভ থেকে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে শরীফ আবারও ওই বাড়িতে যান। তিনি ভুয়া ক্ষমার নাটক সাজিয়ে দাদি ও নাতনির কাছে যান। তবে দাদি সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করলে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পাশে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নাতনি জামিলা চিৎকার করলে শরীফ রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যবহৃত ‘কুন্নি’ দিয়ে তার মাথায় ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
আহত জামিলাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেতে নিয়ে যান শরীফ। টেনে নেওয়ার সময় জামিলা বিবস্ত্র হয়ে পড়লে ওই অবস্থাতেই তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। ধর্ষণের পর গলা টিপে জামিলার মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ সেখানে ফেলে পালিয়ে যান শরীফ।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে দাদির রক্তাক্ত মরদেহ এবং সরিষাক্ষেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। পাবনা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাত ১০টার দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফকে আটক করে। পরে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, শ্লীলতাহানির চেষ্টার জেরে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আসামি স্বীকার করেছেন। এর আগে ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা