তেল শেষ, পেট্রল-অকটেন নেই!
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হঠাৎ করেই পেট্রল পাম্পগুলোয় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পাম্পগুলোতে ‘তেল শেষ’, ‘পেট্রল নাই’ ও ‘অকটেন নাই’ নোটিশ বোর্ড ঝুলছে। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র।
এ বিষয়ে মোটরসাইকেলচালক মারুফ হাসান মুন্না বলেন, কয়েকদিন ধরেই পাম্পে তেলের সংকট চলছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় পাশের কোনো উপজেলায় গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঋষিকেশ বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার আশায় অনেকেই বিক্রি বন্ধ করে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। ডিপোগুলোতে তেল থাকার পরও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না।’
স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুস সালামও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘দাম বাড়ার আশায় কিছু ব্যবসায়ী তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
খানসামা প্রেসক্লাব সভাপতি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘পেট্রলপাম্পগুলো তেল রিজার্ভ করতে, বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।’
খানসামা ফিলিং স্টেশন মালিক অলেমান বলেন, ডিপো থেকে সরবরাহ না আসায় তেল বিক্রি করতে পারছি না। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় বিক্রি শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, এখন থেকে একজন মোটরসাইকেলচালক সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রল বা অকটেন কিনতে পারবেন।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)