বিএনপির শাসনামলে শেয়ার কারসাজি হয়নি : অর্থ উপদেষ্টা
বিএনপির শাসনামলে পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ার কারসাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে হবে। সংস্কারসহ বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়তে হবে।
আজ রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর পল্টনে ফার্স হোটেলে পুঁজিবাজারে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ)।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান। সেমিনারর সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।
পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে মন্তব্য করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পুঁজিবাজারকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সর্বজনের মালিকানা ও অংশগ্রহণের জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তারা সহজে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।
মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশের পুঁজিবাজারে ইসলামিক ফাইন্যান্স মার্কেট সম্প্রসারণ করার সুযোগ আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্লকচেইন ব্যবহার করা হবে। অডিট ব্যবস্থা, সম্পদ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। যারা ভালো করবে তাদের জন্য পুরস্কার এবং যারা অনিয়ম করবে তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকা দরকার।
অডিটরদের প্রতিবেদন দেখেই বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেন জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অডিটররা প্রত্যায়ন করে কোম্পানি ভালো আছে। কিন্তু পরে তাদের সম্পদ বিক্রি করতে গিয়ে দেখা যায় কিছুই নেই। এজন্য অডিটররা যেন সঠিক প্রত্যয়নপত্র দেয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থমন্ত্রণালয়, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল, বিএসইসিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে অডিটরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
আগে দেশের যে অর্থনৈতিক মডেলটি ছিল, তা টেকসই ছিল না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কারণ এটি ছিল ভোগ নির্ভর। টেকসই অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ নির্ভর মডেল। বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে শুধু ঋণ নির্ভর অর্থনীতি কখনোই টেকসই হয় না। বর্তমান যে পরিস্থিতি চলছে, তা থেকে উত্তরণ জরুরি। এজন্য জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে একটি রাজনৈতিক সরকার এসেছে। এই সরকার অর্থনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন করতে চায়। এজন্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
পুঁজিবাজার নিয়ে তিনটি লক্ষ্যের কথা জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রথমত দরকার কাঠামোগত সংস্কার, এরপর ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার এবং বাজারের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ। পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজার মূলধন জিডিপির মাত্র ১২ শতাংশ। এটা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং পুঁজিবাজারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে এনে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যাতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে, একটি কল্যাণধর্মী পুঁজিবাজার গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএসইসির কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ এবং বাংলাদেশ মার্চেন্টস ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার।

নিজস্ব প্রতিবেদক