রাস্তা সংস্কারের টাকা লুটের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর-নগদ অর্থ) কর্মসূচির একটি প্রকল্পে কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠুর বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, খাতা-কলমে রাস্তা তৈরির নাম করে বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেখানে এক মুঠো মাটিও ফেলা হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে খানমরিচ ইউনিয়নের কঠোবাড়িয়া এলাকায় বেলালের বাড়ি থেকে রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটির মেয়াদ প্রায় আট মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই রাস্তায় কোনো সংস্কার বা উন্নয়নের চিহ্ন নেই। কর্দমাক্ত ও চলাচলের অযোগ্য রাস্তাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, শাহ আলম ও হালিমা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও ইউপি সদস্য ছাইদা খাতুন এ বিষয়ে বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে সভাপতি করা হলেও কাজের বা টাকা তোলার ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। চেয়ারম্যান সাহেব টাকা আসছে বলে শুধু আমার স্বাক্ষর নিয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘মাটি না পাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। মাটি পাওয়া গেলে কাজ করে দেব, তাই টাকা ফেরত দিইনি।’ তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদের মধ্যে কাজ না হলে টাকা ফেরত দেওয়ার বিধান থাকলেও কেন তা করা হয়নি, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস হোসেন জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপন ইসলাম, পাবনা (চাটমোহর-ভাঙ্গুরা)