নড়াইলে অকেজো ৬ হাজার সৌরবাতি, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই
নড়াইল জেলার তিন উপজেলায় গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করতে বসানো সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল) অধিকাংশ বাতি এখন আর জ্বলে না। মেয়াদের আগেই বাতিগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে গ্রামের মেঠো পথ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো। ফলে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই যেমন বাড়ছে, তেমনি চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় এই কাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় ২ হাজার ৫৯৫টি সোলার হোম এবং ৩ হাজার ৮৮৮টি স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছিল। সাইফ পাওয়ার টেক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ সম্পন্ন করে।
মাইজপাড়া ইউনিয়নের সমাজসেবক ছলেমান মিয়া অভিযোগ করেন, সাবেক এমপির স্বজনদের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাতি না লাগিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ির ভেতরে বাতি লাগানো হয়েছে।
লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী এস্কেন্দার মিয়া জানান, বাতিগুলো নিভে যাওয়ার পর থেকে এলাকায় চুরি-ডাকাতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
কালিয়া উপজেলার চাচুড়ি গ্রামের জোনায়েদ হাবিব বলেন, অফিসে জানালে তারা বলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, এখন আর কিছু করার নেই।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেকের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. শোয়েবুল ইসলাম জানান, তিন বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদের মধ্যে তারা ত্রুটিপূর্ণ বাতি মেরামত করে দিয়েছেন। বর্তমানে ওয়ারেন্টির সময় শেষ হওয়ায় তাদের আর কিছু করার নেই। তবে মন্ত্রণালয় দায়িত্ব দিলে তারা পুনরায় মেরামতের ব্যবস্থা নিতে পারেন।
নড়াইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের কাছে ১ হাজার ১২৭টি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের তথ্য থাকলেও বাকিগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। তবে বাতিগুলো মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম. মুনীর চৌধুরী, নড়াইল