হাদির হত্যাকারীকে পালাতে সাহায্য করা ব্যক্তি ভারতে গ্রেপ্তার
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সী সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংমা একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
এই মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসটিএফের হেফাজতে থাকাকালীন ওই দুজন জানান, বাংলাদেশের হালুয়াঘাটের বাসিন্দা ফিলিপ সাংমার সহায়তায় তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কমান্ডোরা শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে শান্তিপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাংমাকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশের হালুয়াঘাট এবং মেঘালয়ের ডালুপাড়ার মধ্যে একটি আন্তঃসীমান্ত মানবপাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
ফিলিপ সাংমা আরও স্বীকার করেন, তিনি ফয়সাল ও আলমগীরকে মেঘালয়ের বনাঞ্চল দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করতে সাহায্য করেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের চাপ এড়াতে তিনি নিজেও ভারতে পালিয়ে আসেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ফয়সাল ও আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিপ সাংমাকে শনিবার আদালতে হাজির করা হয়। এই পাচার চক্রের বিস্তার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে আদালত এসটিএফ-কে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, সাংমার জবানবন্দি এই হাই-প্রোফাইল হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মোটরসাইকেল আরোহী হামলাকারীরা হাদির মাথায় গুলি করে। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক