প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
বছর ঘুরে আবারও আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ। আগামী ২০ বা ২১ মার্চ উদযাপিত হতে পারে ১৪৪৭ হিজরি সনের ঈদুল ফিতর।
এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে মাঠের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। পুরো মাঠ জুড়ে প্রায় প্যান্ডেল লাগানো শেষ। কাজ চলছে ফ্যান, লাইট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি বসানোর। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে প্রাথমিক চিকিৎসা বুথ।
প্যান্ডেলের কাজ করা রুবেল নামের একজন বলেন, বর্তমানে প্রায় ২০০ জনের একটি টিম আমরা কাজ করছি। গত ২ মাসের মতো চলছে আমাদের এই কার্যক্রম। এখন প্রায় শেষ দিকে। আশা করছি কাল বা পরশুর মধ্যেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত। এ জামাতে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ময়দানে এবার একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন, যেখানে নারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রবেশ পথ ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা।
বর্তমান সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ময়দানে স্থাপন করা হয়েছে বৃষ্টি নিরোধক সামিয়ানা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। যদি আবহাওয়া কোনো কারণে প্রতিকূল হয়ে পড়ে, তবে ঈদের প্রধান জামাত বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহের প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লি একসঙ্গে অজু করার সুবিধা পাবেন এবং প্রবেশপথসহ ময়দানের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও সচল থাকবে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্যান্ডেলে প্রবেশের জন্য ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য ৪টি পৃথক ফটক এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি ফটক নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।
ডিএনসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জামাতে অংশ নেবেন।
পবিত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায়ের স্বার্থে মুসল্লিদের কোনো প্রকার ধারালো সরঞ্জাম বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসক নগরবাসীকে পবিত্র ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় ঈদগাহের সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক