কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক নম্বর আসামি গেইটম্যান মো. হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী শংকুচাইল এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত। তিনি জানান, অপর পলাতক আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তার করা হেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র্যাব বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবে বলে জানা গেছে।
গতকাল সোমবার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। তিনি নিহত সোহেল রানার খালা এবং কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর’ অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। শেফালী আক্তার নিজেও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন।
ওসি জসীম উদ্দিন আরও জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ উদযাপন করতে দেশে এসে চুয়াডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে ঈদের দিন লাকসামে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত তার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শনিবার ঈদের দিন ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত আটজন।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট সময়মতো বন্ধ না করায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা