হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকারকে তোলা হচ্ছে আদালতে
সাবেক স্পিকার ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেটোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শফিকুল ইসলাম জানান, সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে রংপুরের স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় পৃথক আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। ঢাকার যেকোনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আজ দুপুরের দিকে ঢাকার আদালতে তোলা হবে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন পর্যন্ত রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে সোমবার দিনগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৮/এ রোডের ওই বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরী আড়ালে চলে যান। এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তিনি ভবনটির একটি গোপন কক্ষ বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। তিনি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, সেটা নিয়েও নানা কথা ছড়িয়েছিল। পরে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর আজ ভোররাতে ধানমণ্ডি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে রয়েছে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) হত্যা মামলা। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে শিরীন শারমিনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন রংপুর শহরের পূর্ব গণেশপুর এলাকার নিহত মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হলে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে আসামিদের চাপে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে দাফন করে তার পরিবার। স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ঢাকায় আরও ৬টি মামলা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক