তিন পাম্পের মধ্যে সচল একটি, চাঁদপুরে তেলের সংকট
চলমান ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে চাঁদপুরের জ্বালানি খাতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও যানবাহন চালকরা। শহরের প্রধান তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি আংশিক সচল রয়েছে, বাকি দুটি তেল না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের ‘আমির ফিলিং স্টেশনে’ বর্তমানে শুধুমাত্র পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ ৫ দিন বন্ধ থাকার পর ‘শারমিন ফিলিং স্টেশনে’ অকটেন সরবরাহ আসায় সেটি পুনরায় সচল হলেও চাহিদার তুলনায় তা সামান্য। অন্যদিকে, পেট্রোল ও অকটেন দুটিরই মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ‘ফয়সাল ফিলিং স্টেশন’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না।
মোটরসাইকেল চালক রায়হান বলেন, শহরের তিনটি পাম্প ঘুরে একটিতে তেল পেয়েছি, সেখানেও শুধু অকটেন আছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ খোলা বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে, প্রশাসনের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
শারমিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মামুন জানান, দীর্ঘ ৫ দিন পর সামান্য অকটেন সরবরাহ পাওয়ায় তারা স্টেশন চালু করেছেন। তবে এই মজুত শেষ হলে আবারও পাম্প বন্ধ করে দিতে হবে।
ফয়সাল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, মজুত না থাকায় আমরা নিরুপায় হয়ে স্টেশন বন্ধ রেখেছি। তেল পেলে আবার চালু করব।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, আমরা প্রতিটি পাম্পে গিয়ে মজুত ও সরবরাহের সত্যতা যাচাই করছি। পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কৃত্রিম সংকট রোধে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর