চাঁদপুরে হামে ৩ শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশন ওয়ার্ড গঠন
চাঁদপুরে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় অন্তত ২৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালেই সর্বাধিক ২২ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া হাজীগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন নতুন শিশু রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।
চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালটিতে একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন থেকে আসা লাকি বলেন, আমার শিশুর দুইদিন ধরে পুরো শরীরে হাম উঠে। পাশাপাশি গায়ে জ্বর, কাশ, চোখ দিয়ে পানি পড়ে। ডাক্তাররা বলেছে এখানে চিকিৎসা নিলে বাচ্চা সুস্থ হয়ে যাবে।
আরেক শিশু প্রত্যয় ঘোষ নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেই আবারও হামে আক্রান্ত হয়। তার মা জানান, আমার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ৭দিন থেকে সুস্থ হওয়ার পর বাড়ি ফিরে হাম উঠে। এরপর আবার হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন জ্বর, শ্বাসকষ্ট রয়েছে। ডাক্তার বলেছে জ্বর শ্বাসকষ্ট কমে গেলেই বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে।
শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আজিজুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহে তিনি প্রায় ৫০ জন শিশু রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন। যেসব শিশুর শ্বাসকষ্ট, খেতে না পারা বা শরীর নেতিয়ে পড়ার মতো গুরুতর লক্ষণ রয়েছে, তাদেরই মূলত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হচ্ছে। আপাতত ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চমাত্রার জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হামের প্রধান লক্ষণ। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং শিশুদের পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর