লিচুর ফুল ঝরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা, বিপর্যয়ের শঙ্কা
ফরিদপুরে লিচুর ফুল ঝরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। এবার লিচুর ফলনে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। মৌমাছি কমে যাওয়ায় পরাগায়ন না হওয়াকে দুষছেন অনেক চাষি। তবে কৃষি বিভাগ বলছে ছত্রাক ও আবহাওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। লিচু চাষিদের সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর মদনদিয়া গ্রামের ফজলু মোল্লা প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকার লিচু বিক্রি করে থাকেন। তবে এবার ফলন বিপর্যয়ের কারণে তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। লিচু বিক্রির আয় দিয়ে তিনি সারা বছর চলতেন। এবার সেই আশা ভেঙে গেছে। তিনি মহা সংকটে পড়েছেন।
চাষিরা বলছেন, বছরের শুরুর দিকে মোজাফফরি জাতের লিচু চাহিদার যোগানে সারা দেশে ব্যাপক ভূমিকা রাখে ফরিদপুর। তবে এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রতিটি গাছে এবার ব্যাপক পরিমাণে মুকুল এলেও সেই মুকুল বেরোনোর আগেই ফুল ঝরে পড়ে গেছে। প্রতিটি গাছে এখন মুকুলের ডালগুলো ঝুলে আছে।
সদর উপজেলার লিচু চাষি ফজলু হুজুর বলেন, লিচুর ফুল ঝরে পড়ায় ফল আসেনি গাছে। সব মিলিয়ে এ বছর ফরিদপুরের লিচু বাগান মালিক ও মৌসুমি লিচু ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে। গতবার যে বাগানে ৭ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে, এবার আমার সেই বাগানে লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে কিনা আশঙ্কা রয়েছে।
সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর মদনদিয়া গ্রামটি লিচুর জন্য বিখ্যাত। এই গ্রামের আরেক চাষি লাল মিয়া বলেন, অনেকের কাছে এটি ‘লিচু গ্রাম’ নামেও পরিচিত। এই গ্রামের আমার বাড়িসহ প্রায় বাড়িতে ছোট-বড় লিচুর বাগান রয়েছে। অন্য ফসল উৎপাদন ছেড়ে দিয়ে এ গ্রামের সবাই লিচু চাষে ঝুঁকেছেন। লিচুগাছ-বাগান নেই এমন একটি বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিটি বাড়ি কিংবা জমিতে রোপণ করা হয়েছে লিচুগাছ। গত বেশ কিছু বছর ধরে এ এলাকায় লিচু চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তিনি জানান, দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লিচু চাষ। কম খরচে অধিক মুনাফার আশায় প্রতিবছরই কৃষকরা লিচু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এবার যে ঘটনা ঘটলো তা এর আগে কোনো দিন ঘটেনি। আমরা সরকারের কাছে আশা করব বিষয়টি নিয়ে তারা একটু গুরুত্ব যেন দেয় আমাদের প্রতি।
ফলন আশানুরূপ না হওয়ায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। এতে করে লাভতো দূরের কথা বাগান পরিচর্যার খরচই উঠবে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
এদিকে জেলার বোয়ালমারী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের জাহাপুর, দোস্তরদিয়া, টেংরাকান্দি, মনোহরদিয়া, চর মনোহরদিয়া, খাড়াকান্দি ও মির্জাকান্দি গ্রামে ব্যাপকভাবে লিচুর চাষ হয়। মোজাফফরি জাতের পাশাপাশি গুটি, বোম্বাই এবং চায়না-থ্রি জাতের লিচুর চাষ বেশি হয় এসব এলাকায়। তবে এবার ফলনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এবার জেলায় লিচুর কোটি কোটি টাকার স্বপ্নের উৎপাদনকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, এ বছর ফরিদপুর জেলায় প্রায় ২১০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বৃষ্টি এবং ছত্রাকের আক্রমণে লিচুর আবাদে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে চাষিদেরকে।
লিচু চাষের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, সরকার এমন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর