অনুমতি ছাড়াই ‘সোলেমান লেংটার মেলা’ শুরু, মাদক-চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার বদরপুরে প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই শুরু হয়েছে ১০৭তম সোলেমান লেংটার মেলা। নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলার বিস্তৃতি। ইতোমধ্যে অসংখ্য দোকানপাট বসেছে, তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আস্তানা ও খানকা। মাজারসংলগ্ন এলাকায় চলছে গান-বাজনা ও বিভিন্ন আয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবন, জুয়ার আসর এবং চাঁদাবাজি চলছে। পাশাপাশি কিছু স্থানে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে অশ্লীল নৃত্যসহ অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার পরিবেশ নেই বলেও জানান অনেকে।
এদিকে আজ সন্ধ্যায় সোলেমান লেংটার মেলা থেকে কিছু মাদক সেবনকারী মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এতে করে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে মাজারের অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, গাঁজার দোকান বা অনিয়ম যেসব এলাকায় হচ্ছে, সেগুলো তার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তারপরও তিনি চান, ওরশকে কেন্দ্র করে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড না ঘটুক।
নদীপথে আগত যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনা মাজার এলাকার বাইরে ঘটে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা এনামুল হক বলেন, ইসলামে মাদক, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার কোনো স্থান নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় এসব থেকে বিরত থাকা জরুরি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল জনসমাগম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পোশাকধারী ও সিভিল পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এখনো মেলার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কোন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পীর হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে ‘লেংটার মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিবছর লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর