স্ত্রী ও নবজাতক জমজ সন্তানদের হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা
দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর গত রোববার ঘরে এসেছিল দুই যমজ সন্তান। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে সময় লাগেনি। গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার গোয়ালবাথান এলাকায় সদ্য জন্ম নেওয়া দুই কন্যা শিশু ও স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে ঋণের বোঝা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বাবা আলাল উদ্দিন (৪৫)।
আজ সোমবার সকালে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। মৃত আলাল ওই এলাকার মৃত শবদুল ইসলামের ছেলে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আলাল। প্রায় এক বছর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার চাকরি চলে যাওয়ায় পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। এর মধ্যেই রোববার রাতে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে তার স্ত্রী সুমি বেগম দুই যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
সন্তান জন্মের পর রাতেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন আলাল। সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনরা একাধিকবার তাকে ফোনে কল দিয়ে না পেয়ে প্রতিবেশীদের সাহায্য চান। প্রতিবেশীরা এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে আলালের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন জানান, অসুস্থতার কারণে এক বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন আলাল। একদিকে দুই নবজাতকের চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে ঋণের চাপ—এই দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বি এম সাঈদ, গাজীপুর (কালিয়াকৈর)