১৮০ পিস লাক্ষা মাছ ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি
বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে তীরে ফিরতেই যেন আনন্দের বান ডাকল পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। কোনো সাধারণ মাছ নয়, তিন জেলের জালে এবার ধরা পড়েছে রূপালি সম্পদের খনি। প্রায় ১৮০ পিস বিশাল আকৃতির লাক্ষা মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন জেলেরা, যা বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকায়।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি ধাপে পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এই মাছগুলো বিক্রি করা হয়। বিরল এই মাছগুলোর প্রধান ক্রেতা ছিলেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী জাকির।
মৎস্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুড়া গ্রামের জেলে আবুল আকনের জালে ধরা পড়ে ৬৬ পিস লাক্ষা। এছাড়া জিয়ানগর উপজেলার পূর্ব চরবলেশ্বর গ্রামের দুলাল ফকিরের জালে ৫০ পিস এবং একই এলাকার কালাম খানের জালে ধরা পড়েছে ৬৩ পিস মূল্যবান এই মাছ।
ঘাটে আসা একেকটি লাক্ষা মাছের ওজন ১০ থেকে ২২ কেজি পর্যন্ত। মূল্যবান এই মাছের বড় চালান নিয়ে তিনটি ফিশিং বোট ঘাটে ভেড়ার পর থেকেই সেখানে ভিড় জমান উৎসুক মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, দীর্ঘদিন মাছ ধরার ওপর অবরোধ চলায় পরিবার নিয়ে তারা কষ্টে ছিলেন। সেই সংকট কাটিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়ার পর এমন বড় চালান তাদের জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে। তিনটি বোটের মধ্যে দুটি বোটের মাছ ইতিমধ্যে ২২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং বাকি একটি বোটের মাছ ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পিরোজপুরের এই মাছগুলো এখন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ফিশারীঘাটে সরবরাহ করা হবে। সামুদ্রিক এই মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চড়া দামে এগুলো বিক্রি হচ্ছে। অনেকদিন পর এমন বিরল ও দামী মাছের দেখা পেয়ে জেলে, বোট মালিক এবং ব্যবসায়ীদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি।
পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি কমল দাস জানান, বছরের এই সময়টিতেই লাক্ষা মাছ পাওয়া যায়। এটি খুবই দামি মাছ। এ মাছ কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে আমরা বিক্রি করে থাকি। এর পেটের ভেতর বালিশ নামে একটি জিনিস থাকে যেটি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। যার কারণে মূলত এই মাছের দাম বেশি। বর্তমানে সাগরে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যায় না। তাই অনেক জেলে ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে চায় না। দু একটি ট্রলারের জেলেদের ভাগ্য ভালো হলেই এই মাছ পাওয়া যায়।

রশিদ আল মুনান, পিরোজপুর