ফেনীতে তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত!
অসময়ের বৃষ্টি, জ্বালানি তেল সংকটে পরিবহণ সিন্ডিকেট আর বাজারে নজিরবিহীন দরপতনের কবলে পড়ে ফেনীর তরমুজ চাষিরা এখন দিশেহারা। চলতি মৌসুমে আবাদ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লাভের বদলে ‘মূলধন’ হারাতে বসেছেন হাজারো কৃষক। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় অনেক চাষি মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট করছেন, এমনকি গবাদি পশুকেও খাওয়াচ্ছেন।
উপকূলীয় সোনাগাজীর দক্ষিণ চর চান্দিয়ায় আবু সায়িদ রুবেলসহ ১০ কৃষক মিলে ৯০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। এক কোটি ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগে ফলন বাম্পার হলেও বাজারে ক্রেতা নেই। চরাঞ্চলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে অনেক তরমুজে পচন ধরেছে, আবার ভাইরাসের আক্রমণে ফলের আকার ছোট হয়ে গেছে।
চাষিরা জানান, প্রতি ১২০ শতক (এক কানি) জমিতে এবার খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অথচ বাজারে সেই খরচের তিন ভাগের এক ভাগ দামও মিলছে না। আগে এক ট্রাক তরমুজ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হতো, যা এখন এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি উঠছে না। এর ওপর বাড়তি পরিবহণ খরচ, আড়ত কমিশন ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি বাদ দিলে কৃষকের হাতে কিছুই থাকছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে ভেঙে যাওয়া মুসাপুর ক্লোজারটি দুই বছরেও পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জোয়ারের পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে কৃষি অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। রাজু আহমেদ ও কবির আহম্মদের মতো অনেক চাষি জানান, হিমাগার না থাকায় তারা ফসল সংরক্ষণ করতে পারছেন না, ফলে বাধ্য হয়ে পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ প্রায় দ্বিগুণ (এক হাজার ২৯৯ হেক্টর) হয়েছে। তবে বৈশ্বিক তেল সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগান চাকমা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণে সমস্যা হলে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের পাশে থাকবে।
গত বছর জেলায় ১৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হলেও এবার আবাদ বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো দূরের কথা, কৃষকের ঘামঝরানো পুঁজিটুকুও উঠবে কি না—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

জাহিদুল রাজন, ফেনী জেলা (সদর-ছাগলনাইয়া)