হাকালুকিতে কৃষকের আর্তনাদ, ধান বাঁচাতে প্রাণপণ লড়াই
টানা কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির বোরো ধান। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাওর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে এখন কৃষকদের ধান সংগ্রহের প্রাণপণ লড়াই চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় পানির নিচ থেকে তোলা ধানে পচন ধরতে শুরু করেছে, অনেক স্থানে দেখা দিচ্ছে অঙ্কুরোদগম। ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে হাকালুকি হাওরের দক্ষিণ তীরের ভূকশিমইল, জয়চণ্ডী ও কাদিপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা দিয়ে পানির নিচ থেকে আধা-পাকা ধান কেটে আনছেন। শ্রমিকের তীব্র সংকট এবং জ্বালানি তেলের অভাবে হারভেস্টার মেশিন সময়মতো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এক বিঘা জমির ধান ঘরে তুলতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যেখানে বাজারে ধানের মণ ৯০০-১০০০ টাকা।
জয়চণ্ডী ইউনিয়নের কৃষক মান্নান মিয়া জানান, রোদ না থাকায় কাটা ধান মাড়াই করা যাচ্ছে না, ফলে স্তূপ করা ধানে পচন ধরছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, কুলাউড়ায় এবার ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। অতিবৃষ্টি ও ঢলে প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৩ হাজার কৃষকের ওপর। তবে ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনিরের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। তার ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি বোরো ধান ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাওর তীরবর্তী মীরশংকর, কাদিপুর, সাদিপুর, মহেষগৌরী, ভূকশিমইল, জাবদা, জালালাবাদ ও নওয়াগাঁওসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক গ্রামের মানুষ এখন পানির সাথে যুদ্ধ করছে। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে অনেক পরিবারে এখন খাদ্যাভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, আগাম বন্যা ও ঢল থেকে ফসল রক্ষায় টেকসই বাঁধ বা স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও হাওর এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এছাড়া গতকাল রোববার (৩ মে) থেকে সরকারিভাবে ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যেখানে একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। এবারের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৩৫ টন।

আশিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজার (বড়লেখা-কুলাউড়া-জুড়ী)