‘ইলিশ কিনতে গিয়ে গুড়ামাছ নিয়ে ফিরেছি’
পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে সারা দেশে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম এখন আকাশচুম্বী, যা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী-উভয় পক্ষই চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছর ইলিশের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়লেও এবার চিত্র ভিন্ন। জ্বালানি তেলের সংকটে অনেক জেলে সাগর ও নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জোগানে। জোগান কম থাকায় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইলিশের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আকারভেদে প্রতি মণ ইলিশের দাম ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। সেই হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ছে ৪ হাজার টাকারও বেশি। এছাড়া ৫০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা। খুচরা বাজারে ছোট সাইজের ইলিশও ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার নিচে মিলছে না।
এদিকে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে, যা ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আগে জেলেরা গভীর সমুদ্রে গেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা সামান্য কিছু মাছ পেলেও অনেককে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা বিপ্লব নামের এক ক্রেতা বলেন, বৈশাখ মানেই ইলিশ, কিন্তু এবার দাম শুনেই অবাক হতে হচ্ছে। ইলিশ কেনা এখন আমাদের মতো মানুষের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
ক্রেতা আল আমিন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ইলিশ কিনতে বাজারে গিয়েছিলাম। কিন্তু দাম দেখে হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত গুড়ামাছ কিনেই বাসায় ফিরছি। এই ইলিশ এখন আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় চর পড়ে যাওয়ায় এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ফিশিং বোটগুলো সমুদ্রে ঠিকমতো যেতে না পারায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, আগামী বর্ষা মৌসুমে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারবেন।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)