নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সমঝোতা সভা আহ্বান করা হলেও তাতে সাড়া দেননি আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
নিরাপত্তার নিশ্চিত করা ছাড়া কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান জানান, কর্মবিরতির অবসান ঘটানোর আশায় আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কর্মবিরতিতে থাকা প্রায় ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের কেউই আলোচনার টেবিলে আসেননি। তাদের একটাই দাবি—আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট সংকট সামাল দিতে সরকারি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে। হাসপাতালের কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলা, হৈচৈ এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে আকস্মিক কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা ভর্তি কিংবা চিকিৎসাসেবা পাননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার দিন গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুস সামাদ (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে তাকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও হৈচৈয়ের কারণে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
তবে এর আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালা ভেঙে পুনরায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা শুরু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।
চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ নুর নবী জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনও কেউ মামলা করেনি। শ্যালক আব্দুস সামাদের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তাকে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মামলা হলে তাকে হাজির করার ব্যাপারে স্বজনরা সম্মত রয়েছেন।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)