জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকার সমন্বিত ও বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে রুমিন ফারহানার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) পক্ষে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫)।
মন্ত্রী জানান, অভিযোজন কার্যক্রম কার্যকর করতে ‘লোকালি লেড অ্যাডাপ্টেশন ফ্রেমওয়ার্ক (এলএলএএফ)’ এবং নির্গমন হ্রাসে ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)’ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)’ গঠন করা হয়েছে। প্যারিস চুক্তির আওতায় কার্বন বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে এক কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বন পুনরুদ্ধার, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং সড়ক-মহাসড়ক ও বাঁধ এলাকায় বনায়ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের (সিসিটিএফ) বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই তহবিলে মোট চার হাজার ১৫১ দশমিক ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৮৫টি প্রকল্পের বিপরীতে চার হাজার ৩৮৩ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮২৮টি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
পরিপূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি ধীরগতির ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা ধারাবাহিক ও পরিকল্পিতভাবে অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক