প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সংগীত প্রশিক্ষকের প্যানেল
সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে প্রশিক্ষকের প্যানেল তৈরি করে সেখান থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়৷
সরাসরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার৷ তবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংগীত প্রশিক্ষকের একটি প্যানেল তৈরি করবে৷ এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সেখান থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে৷ রোববার দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রোববার দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়৷ সেখানে ১৯টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷
বৈঠকে প্রথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন৷ এছাড়া দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন৷
বৈঠক শেষে ববি হাজ্জাজ ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘অনেকগুলো বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে৷ এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে৷ সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সংগীত প্রশিক্ষকের একটি প্যানেল তৈরি করবে৷ সেখানে থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে৷ তাদের স্থায়ী নাকি অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়৷ তবে এই শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা সবকিছু সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেখবে৷
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে কি ছিল?
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী৷ গত ৩১ মার্চ মন্ত্রী জানান, ‘‘প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংগীত শিক্ষক নির্বাচিত করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়৷ বেতন-ভাতা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়৷”
কিন্তু দুই মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় সংগীত প্রশিক্ষকদের বেতন ভাতা দেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমন কথা জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ৷
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তখন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংগীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতিতে এই উদ্যোগ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন করা হবে৷ এ পদ্ধতিতে সংগীত প্রশিক্ষকেরা একটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করবেন৷ সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলার স্কুলপর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানে উপজেলাভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সংগীত শিক্ষা নিশ্চিত করবে৷
মন্ত্রী আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একইভাবে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে৷
কেন থেমে যায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ?
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫' এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল৷ এতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল৷
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে গত নভেম্বরে বিধিমালা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার৷ তাতে শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়৷ সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তখন বিধিমালা থেকে বাদ দেওয়া হয়৷
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ৩১ মার্চ সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘তখন সব প্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং তারা মূলত জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিলেন৷ অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা ছিল না৷ ওই সময়ে কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যা আমাদের মতে এড়িয়ে যাওয়া যেত৷ তবে আমি বলব না যে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল৷”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা ডিডাব্লিউকে তখন বলেছিলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের সময় গান আমাদের উদ্যমী (স্পিরিট) করেছিল৷ এই গানগুলোকে কি আমরা অস্বীকার করতে পারব? চব্বিশের আন্দোলনে কি এই সংগীত ভূমিকা রাখেনি? গান এমন একটি বিষয়, এটি চাইলেই বাদ দিতে পারব না৷ গানের মাধ্যমে আমরা দেশকে চাই৷ অন্যদিকে আমাদের মেয়েরা শরীরচর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটা অবস্থান তৈরি করেছে৷”

ডয়চে ভেলে