ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদান
পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৩১ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। প্রায় এক দশক আগে বিদ্যালয়ের ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষিত হলেও আজ পর্যন্ত নতুন কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে খোলা মাঠে কিংবা জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান।
১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ। সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯২ ও ২০১০ সালে নির্মিত ভবন দুটির পিলার ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা ও ইট-সিমেন্টের চাঙ্গর। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর এই ফাটলগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন জানায়, ক্লাসে বসলে খুব ভয় লাগে। মনে হয় ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাবে। বৃষ্টি হলে বই-খাতা সব ভিজে যায়।
পঞ্চম শ্রেণির জহুরুল ইসলাম বলে, মাঠে বসে ক্লাস করতে রোদে গরম লাগে, আর শীতে খুব কষ্ট হয়।
বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৩১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। কোনো বিকল্প না থাকায় কখনো জরাজীর্ণ কক্ষে, আবার কখনো রোদ-কুয়াশা উপেক্ষা করে খোলা মাঠে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষকরা জানান, খোলা মাঠে ক্লাস নিলে শিশুরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারে না, আবার সামান্য বৃষ্টি হলেই বাধ্য হয়ে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে সরিয়ে নিচ্ছেন। অভিভাবক আব্দুল লতিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক বলেন, ভবনটি বহু আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি।
চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গণি জানান, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপন ইসলাম, পাবনা (চাটমোহর-ভাঙ্গুরা)