মিশ্র মাছ চাষে সাফল্য, পুকুর পাড়ে সবজি চাষ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুকুরে বিভিন্ন জাতের দেশি মাছের মিশ্র চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষক রোমান আলী শাহ। এক একর আয়তনের একটি পুকুর থেকে চলতি মৌসুমে সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা নিট মুনাফা করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের রোমান আলী শাহ গত ১৭-১৮ বছর ধরে মৎস্য খাতের সাথে যুক্ত। দীর্ঘ সময় মাছের রেণুপোনা উৎপাদন ও বিক্রি করলেও গত দুই বছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। এ বছর তার এক একরের পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, সরপুঁটি ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করেছেন।
রোমান আলী জানান, চলতি বছর তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে এবং বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী তিনি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন। মাছের পাশাপাশি তিনি পুকুরের পাড়ে লাউ, করলা, শিম, পুঁইশাক ও ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজির আবাদ করেছেন। এই সবজি বিক্রি থেকে আরও এক থেকে দেড় লাখ টাকা বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা তার।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, রোমান আলীর পুকুরের মাছের গুণগত মান ভালো এবং দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি পুকুর থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, এতে চাষি ও ব্যবসায়ী- উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।
সফল এই মৎস্যচাষি বলেন, বেকার যুবকরা অযথা ঘোরাফেরা না করে মাছ চাষে এগিয়ে এলে নিজেদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব। সরকারি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে গ্রামীণ পতিত জলাশয়গুলোতে মাছের আবাদ আরও বাড়ানো যেত।
কুলিয়ারচর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা রোমান আলী শাহকে একজন পরিশ্রমী ও আধুনিক চাষি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তার মতো নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে মৎস্য বিভাগ সবসময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকবে।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব