গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চীনের সহায়তা চাইলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চীনের সহায়তা চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীতে জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমরা এই এক্সচেঞ্জকে আরও প্রসারিত করতে চাই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো মেডিকেল কলেজ আছে, চীনের মেডিকেল কলেজের সঙ্গেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সিলেবাস এবং কারিকুলাম এক্সচেঞ্জ প্রয়োজন। এটি আমাদের যেমন অগ্রগতি হবে, তেমনই চীনের চিকিৎসকদেরও নতুন অভিজ্ঞতা হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এবং চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের মধ্যে একটি যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার সূচনা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিক্যাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশ দুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাথে চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সব ধরনের জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিক্যাল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মেডিক্যাল শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি বিষয়ের প্রফেসর লি জিয়ংমিং প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক