৫ দিন বিদ্যুৎহীন কমলগঞ্জ, কুপির আলোয় পড়ছে এসএসসি পরীক্ষার্থী
স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের মধ্যেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বিরাজ করছে মধ্যযুগীয় অন্ধকার। গত শনিবার রাত ২টা থেকে টানা ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় স্থবির হয়ে আছে পুরো ইউনিয়ন। ৯৬ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ না ফেরায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে। হারিকেন আর কুপির বাতিই এখন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বিদ্যুৎহীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দোকানে মোমবাতির সংকট দেখা দিয়েছে, যা পাওয়া যাচ্ছে তার দামও চড়া। যাদের বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ আছে, টানা ৫ দিনের বৃষ্টির কারণে ব্যাটারি চার্জ না হওয়ায় তারাও অন্ধকারে। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে ঘর আলোকিত করছেন। সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকটে পড়েছে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে কুপির আবছা আলোয় তাদের পড়ালেখা করতে হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তুষ্টি পাল ও তাওহীদ হাসান তানজিম বলেন, কুপির ধোঁয়া ও স্বল্প আলোয় দীর্ঘক্ষণ পড়লে চোখে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন বিদ্যুৎহীনতা আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্যোক্তা পিংকি পাল জানান, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট অচল থাকায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বা নাগরিক সনদের মতো জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পেরে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া বৈদ্যুতিক পাম্প চালাতে না পারায় এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এ বি এম মিজানুর রহমান জানান, ঝড়-বৃষ্টির কারণে লাইনের ওপর গাছ পড়ে খুঁটি ও ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মীরা গত রোববার থেকেই মাঠে কাজ করছেন। মূল সঞ্চালন লাইনে বড় ত্রুটি থাকায় মেরামত করতে সময় লাগছে। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)