চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, পাঁচ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস
দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হওয়ায় পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বৃষ্টি আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অপরদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়েছে। বাকি তিন জেলায় বন্যা হতে পারে। কারণ এসব জেলার নদ–নদীর পানি বাড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থপ্রতিম বড়ুয়া আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে বলেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্যই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার, ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার।
চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু বাদ দিয়ে বাকি তিন নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এর বাইরে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সুরমার পানি ৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে; আর কুশিয়ারার বেড়েছে ১ সেন্টিমিটারের মতো। অন্যান্য ছোট নদ–নদী—সোমেশ্বরী, কংস, মনু—এগুলোর পানি দেড় সেন্টিমিটারের মতো বেড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থপ্রতিম বড়ুয়া আরও জানান, এগুলো পাহাড়ি নদী হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলেই পানি দ্রুত বাড়ে। বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক