এক মাসের ব্যবধানে দু-দফা ভাড়া বৃদ্ধি, ফেনী-ঢাকা রুটের যাত্রীদের ক্ষোভ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-ঢাকা রুটে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় বাস ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ রুটে চলাচলকারী লোকাল বাসের পাশাপাশি দূরপাল্লার পরিবহণের ভাড়াও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ওই রুটের একমাত্র দূরপাল্লার পরিবহণ প্রথমে ২০ টাকা ভাড়া বাড়ায়। পরবর্তীতে জ্বালানি সংকট ও সরকারি ভাড়া সমন্বয়ের অজুহাতে আরও ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। ফলে এক মাসের ব্যবধানে মোট ভাড়া বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।
বর্তমানে বেসরকারি পরিবহণটির নতুন ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী—ফেনী থেকে টিটিপাড়া এসি বাসে ৪৭০ টাকা এবং নন-এসি বাসে ৪০০ টাকা (এক মাস আগে ছিল যথাক্রমে ৪৩০ ও ৩৬০ টাকা)। ফেনী থেকে আবদুল্লাহপুর বা মিরপুর এসি বাসে ৫৪০ টাকা এবং নন-এসি ৪৭০ টাকা (এক মাস আগে ধাপে ধাপে বেড়ে যা ছিল যথাক্রমে ৪৮০-৫০০ ও ৪৩০-৪৫০ টাকা)।
অন্যদিকে, লোকাল বাসগুলোতেও ২০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বাসে নির্দিষ্ট চার্ট না থাকায় যাত্রীদের সঙ্গে দরদাম করে ২৫০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
বিআরটিএ-র তথ্যমতে, ফেনী থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৪৯ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ২ দশমিক ২৩ টাকা হিসেবে (টোলসহ) সরকারি নির্ধারিত ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ৪৪০ টাকা। তবে প্রকৃত ভাড়ার সঙ্গে আদায় করা ভাড়ার বড় পার্থক্যের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেন দীপ্ত বলেন, এই রুটে বিকল্প ভালো বাস নেই বলে আমরা জিম্মি। সরকার নির্ধারিত ভাড়া এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ।
যাত্রী হাসানুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একবার ভাড়া বাড়লে তা আর কমে না। প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন নেই।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে একটি বেসরকারি বাস কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন বলেন, আমরা কখনও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেইনি। বরং অনেক সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকায়ও যাত্রী পরিবহণ করে থাকি।
বিআরটিএ ফেনী সার্কেলের সহকারী পরিচালক এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা নজরে নিয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তোফায়েল আহাম্মদ নিলয়, ফেনী