ফেনীর চরাঞ্চলে তরমুজে ২৫০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা
ফেনীর উপকূলীয় জনপদে অর্থকরী ফসল হিসেবে তরমুজ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। জেলার অনাবাদী চরাঞ্চলে এখন সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে রসালো তরমুজ। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় বিগত বছরের তুলনায় চাষাবাদ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষীদের আশা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর ফেনীতে ২৫০ কোটি টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ হেক্টরে। এর মধ্যে শুধু সোনাগাজী উপজেলার চরাঞ্চলেই চাষ হয়েছে ১ হাজার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে। মাঠের পর মাঠে ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্ল্যাক জায়ান্ট, বাংলালিংক, ব্ল্যাক বেরি, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারের মতো উচ্চফলনশীল দেশি-বিদেশি জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে।
সোনাগাজীর চরচান্দিয়া, চর দরবেশ ও আমিরাবাদ এলাকার কৃষকরা জানান, চরের মাটি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পাশের জেলা সুবর্ণচর থেকেও অনেক অভিজ্ঞ কৃষক এখানে জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করছেন।
২০১৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই চাষ এখন জেলার প্রধান বাণিজ্যিক ফসলে রূপ নিয়েছে। কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে জেলায় ৫১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সাফল্যের মাঝেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে জোয়ারের লোনা পানি। ২০২৪ সালের বন্যায় সোনাগাজীর মুসাপুর ক্লোজারটি ভেঙে যাওয়ায় সাগরের নোনা পানি অনায়াসেই ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে।
কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, নোনা পানি তরমুজের প্রধান শত্রু। ক্লোজারটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই সম্ভাবনাময় কৃষি খাত ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, গত মৌসুমে ফেনীতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিল। এবার চাষাবাদ ৫২৫ হেক্টর বেড়েছে। প্রতি কেজি ন্যূনতম ৫০ টাকা ধরলেও এ বছর বাজার আড়াইশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহিদুল রাজন, ফেনী জেলা (সদর-ছাগলনাইয়া)