পটুয়াখালীতে আটক সন্দেহজনক পপিসিডের নমুনা পরীক্ষাগারে
পটুয়াখালীতে আটক নিষিদ্ধ চোরাচালানের ৮০০ বস্তা পণ্যের সন্দেজনক পপিসিডের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের নাম আলোচনায় থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাদের আটক করেনি পুলিশ। অভিযুক্ত চোরাচালানীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও উল্টো তারা বিভিন্ন পর্যায় দৌড়ঝাঁপ করছেন থানা থেকে এসব বীজ ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের ভাসাভাসা তথ্য সরবরাহ করায় বিষয়টি রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুল ইসলাম সজল জানান, আটক বীজ পরীক্ষাসহ আইনানুগ যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত গভীর রাতে বাউফলের আলগী নদী সংলগ্ন বন্দরের ধানহাটা ট্রাকস্ট্যান্ডে একটি কার্গো থেকে বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্য সন্দেহে বিপুল বস্তা ভর্তি মালামালসহ কার্গোটি আটক করে স্থানীয় মানুষ। পরে কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন কার্গো জব্দটি করে থানার জিম্মায় দেয়।
স্থানীয়রা জানায়, অন্ধকারে পণ্য খালাসের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে তারা কয়েকটি বস্তা খুলে দেখে সেখানে এক ধরনের বীজ রয়েছে, যা তাদের ধারণা অনুযায়ী পপিসিড হতে পারে। এ ছাড়া কিছু বস্তায় সুপারি পাওয়া গেছে। তবে বাকি বস্তাগুলোতে আরও অবৈধ পণ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তারা। বস্তাভর্তি সুপারি মিয়ানমার থেকে আনা হয়েছে অবৈধ পথে। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এই চোরাচালান ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত আছে।
খবর পেয়ে রাতেই সংবাদকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। শেষে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বস্তাগুলো স্থানীয়দের হাতে আটকের পর কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মধু সুদন দাস ওরফে মধু মেম্বারের দুই ছেলে উত্তম দাস ও আশীষ দাস ঘটনাস্থলে এসে পণ্যগুলো নিজেদের বলে দাবি করেন। তারা স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ নিয়ে দেনদরবার চলে।
এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জব্দ করা এসব পণ্য কালাইয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মধু সুধন দাসের ছোট মেয়ে জামাই জয়দেব দাসের। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মিয়ানমার ও ভারত থেকে অবৈধভাবে পণ্য আনার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে চোরাচালানির। এর সঙ্গে পটুয়াখালীর আরেক চোরাচালানী প্রফুল্ল দাসও যুক্ত রয়েছেন। কিছু দিন আগে বরিশাল কোতোয়ালি থানার একটি চোরাচালানের মামলায় জয়দেব ও প্রফুল্ল হাজতবাস করেছেন। বহু বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী, বরগুনা, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও ভোলার নৌপথ ব্যবহার করে ভারত ও মিয়ানমার থেকে কসমেটিক্স, পার্টস, মাদকসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে তেঁতুলিয়া নদীতে চন্দন কাঠের একটি চালান জেলেদের হাতে ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা রক্ষা পান। ২০২১ সালে কালাইয়া বন্দরের আলগী নদী এলাকায় প্রায় তিন হাজার বস্তা অবৈধ পণ্যসহ দুটি কার্গো স্থানীয়দের হাতে আটক হলেও একইভাবে তারা পার পেয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জয়দেব দাসের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জয়দেব দাসের শ্যালক আশীষ দাস বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে। কিছু বস্তায় পোস্তদানা ও সুপারি আছে। কোনো অবৈধ মালামাল নেই।
এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা পণ্যের প্রকৃতি যাচাই করে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, কোনো ধরনের লুকোচুরি হওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী