সন্তান জন্ম দেওয়ার ৪ ঘণ্টা পরই দাখিল পরীক্ষায় বসলেন কিশোরী মা
সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র চার ঘণ্টা পর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাসমিয়া আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরপরই সে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছে।
তাসমিয়া উপজেলার রাজৈর ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দ্বীপচর গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম আকনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি খোন্তাকাটা গ্রামের আল মামুন হাওলাদারের সঙ্গে তাসমিয়ার বিয়ে হলেও সে তার পড়াশোনা চালিয়ে যায়।
গত সোমবার রাতে তাসমিয়ার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। ওইদিন তাসমিয়ার গণিত পরীক্ষা ছিল। শারীরিক অসুস্থতা ও ধকল সামলে সবাই যখন ধরে নিয়েছিলেন সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না, তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয় তাসমিয়া। শুধু গণিত নয়, পরবর্তী বাংলা পরীক্ষাও সে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
রায়েন্দা রাজৈর আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. আব্দুল জলিল জানান, সন্তান জন্মের পর তাসমিয়ার প্রবল আগ্রহ দেখেই তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ধনঞ্জয় মন্ডল পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তাসমিয়ার খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি জানান, অসুস্থতা বিবেচনায় আলাদা বেডে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাসমিয়া সুস্থ বোধ করায় সবার সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে বসে পরীক্ষা দিয়েছে। তাসমিয়ার এই প্রবল ইচ্ছাশক্তি এলাকায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

জাহিদ হিমেল, বাগেরহাট (শরণখোলা)