বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে ঢাকা
বায়ুদূষণের তালিকায় আজ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এরপরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।
আজ রোববার (৩ মে) সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তিন নম্বরে রয়েছে ভারতের কলকাতা। চতুর্থ ভারতের আরেক শহর দিল্লি এবং চীনের সাংহাই পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মানের স্কোর ১৫৪ অর্থাৎ এখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর।
রিয়েল টাইম একিউআই স্টেশন র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর থেকে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি এলাকার বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৯৩, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর।
র্যাঙ্কিংয়ের তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে—ধানমণ্ডি, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, দক্ষিণ পল্লবী, উত্তর বাড্ডা, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গুলশান লেক পার্ক, বারিধারা লেকসাইড, পেয়ারাবাগ রেললাইন ও গোড়ান।
ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস ও হৃদ্রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলা এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক