উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন রিমান্ডে
উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজনকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসআই আশরাফুল আলম বলেন, ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান মোল্লা আসামিদেরকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দুদিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
নথি থেকে জানা গেছে, গত সোমবার দিনগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল তাদের আটক করে। এরপরে গত বুধবার ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের ইন্সপেক্টর শেখ মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
এজাহার থেকে জানা গেছে, কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদসংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকা থেকে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিম এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে আটক করা হয়। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই; তাদের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুরে। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর এবং আবু বক্করের বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।
অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, ১৪টি গুলি, তিনটি খোসা, একাধিক স্মার্টফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি মেটাল ডিটেক্টর, দুটি ড্রোন, সামরিক পোশাক, জিহাদি বই, ৯০০ গ্রাম গানপাউডার ও পাঁচ বোতল অ্যাসিড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম রাষ্ট্রবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে ডিবির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আরসার পাশাপাশি পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’
উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে বলার সুযোগ নেই। তবে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক