মানি লন্ডারিং মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস
ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) মামলায় গ্রেপ্তার শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
এদিন রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা আসামি শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এর আগে গত রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
এ মামলার ভিত্তিতে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।
মামলায় আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূতভাবে এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা প্রাথমিকভাবে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এভাবে অর্জিত অর্থ কয়েকটি কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ভুয়া লেনদেনের আড়ালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।

আদালত প্রতিবেদক