সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে এক বছর বিচারক নেই, বিচারাধীন ৫ হাজার মামলা
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রায় এক বছর ধরে বিচারক না থাকায় বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখে আদালতে এসে বিচারক না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। এতে দিন দিন বাড়ছে মামলার জট।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলার পাশাপাশি আদালতটি শিশু আদালত ও মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও পালন করে। বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। কলারোয়া, আশাশুনি, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, শ্যামনগর ও তালাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আদালতে আসতে হচ্ছে। যাতায়াত, আইনজীবীর খরচ এবং দিনের কাজের ক্ষতি- সব মিলিয়ে বাড়ছে তাদের আর্থিক চাপ। অনেক সময় আদালতে এসেও নির্ধারিত দিনে শুনানি না হওয়ায় নতুন তারিখ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালে কোনো বিচারক নেই। প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শিশু আদালত ও মানব পাচার আদালতের দায়িত্বও এই আদালত পালন করে। দ্রুত একজন বিচারক নিয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিচারপ্রার্থীরা বলেন, একই মামলার জন্য বারবার আদালতে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
শিশু সন্তান নিয়ে আদালতে আসা এক নারী বলেন, বিচারক না থাকায় গরমের মধ্যে শিশুদের নিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত বিচারক নিয়োগ করে ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তিনি।
আইনজীবীরা বলেন, সাতক্ষীরার আরও কয়েকটি আদালতেও বিচারক সংকট রয়েছে। এতে জেলার বিচারব্যবস্থায় সামগ্রিক চাপ তৈরি হয়েছে।
আইনজীবী বদিউজ্জামান বলেন, সাতক্ষীরায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। প্রয়োজনের তুলনায় বিচারকের পদ শূন্য থাকায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
মামলার জট কমাতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করেছে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি।
আইনজীবী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, শূন্য থাকা ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলায় দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে। দ্রুত বিচারক নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না হলে মামলার জট আরও বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে।

আনিছুর রহমান, সাতক্ষীরা (সদর-কলারোয়া-তালা-ভোমরা স্থলবন্দর)