হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের হাওরে হাওরে চলছে হাহাকার। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এরই মধ্যে নিঃস্ব হয়েছে সরকারি হিসাবেই ৫০ হাজার কৃষক। যদিও হাওরনেতা ও কৃষকরা বলছে এই হিসাব তিন থেকে চার গুণ হবে। জেলার চার লাখ কৃষক পরিবারের মধ্যে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে এসেছে ৫০ হাজার জন।
ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কয়েক লাখ কৃষক। তাই এখনও ক্ষতিগ্রস্ত তিন ভাগের দুই ভাগের নাম আসেনি তালিকায়। যাদের এসেছে তাদেরও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আনা হয়েছে। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাদ দিয়ে তাদের পছন্দের লোকজন তালিকায় রেখেছে।
এনিয়ে হাওর এলাকায় কৃষকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও কষ্ট বিরাজ করছে। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতা দেখার হাওরের কৃষক নাসির ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘যে তালিকা করা হয়েছে, যারা জমি চাষ করে না তাদের নাম এসেছে, যারা,বর্গাচাষি তাদের ক্ষতি হয়েছে।
মেম্বার-চেয়ারম্যানরা যোগসাজশে স্বজনপ্রীতি করেছে। তাদের যেখানে ভোট ব্যাংক সেখানের ভোটারের নাম তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নামে বসিয়ে দিয়েছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আমরা দাবি করছি, প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকায় রাখা হোক এবং ৫০ হাজারের জায়গায় প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা যাচাই করে তালিকা বৃদ্ধি করা হোক।
নাসির উদ্দিনের নাম ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষতি পূরণ না দিক একটু সান্ত্বনাও দিল না এসে। যারা লিস্ট করছে তারা তাদের মুখ চিনে করেছে। আমাদের কোনো নাম উঠেনি।
কৃষক বিভুল মিয়া (৬৪) বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুনেছি কৃষককে সহযোগিতা করবেন। শুনে খুশি হয়েছি। কিন্তু আমাদের এত ক্ষতি হলো কেউ খোঁজ নিল না।
সুনামগঞ্জ কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, আজ শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ৮৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। তবে বাস্তবতার সঙ্গে এই হিসাবের কোনো মিল নেই। হাওরে এখনও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ফসল রয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘যেহেতু গত দুই দিন বৃষ্টিপাত হচ্ছে না তাই ক্ষয়ক্ষতি একই আছে মানে। ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধান কাটার প্রকৃত হিসাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের তিন ক্যাটাগরিতে সরকারের দেওয়া সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে সাত হাজার ৫০০ টাকা, ২০ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু হয়েছে। এই সহায়তা আগামী তিন মাস দেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল বলেন, ‘ধানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটা ধোঁয়াশা আছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করব। এখন পর্যন্ত তালিকায় ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম এসেছে।’

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ