বিষ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে ৩২ বছর পর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা
পরকীয়া প্রেমের জন্য দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে দীর্ঘ ৩২ বছর পর স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
১৯৯৪ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এ ঘটনায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে গোবিন্দগঞ্জের জরিপপুর গ্রামের মৃত আজিজার শেখের ছেলে মো. ঘেংগারু শেখের (২৮) সঙ্গে একই গ্রামের মৃত ইছাহাক আলী শেখের মেয়ে রেশেনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ঘেংগারু শেখ শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে ছিলেন। পরবর্তীতে রেশেনা বেগমের ছোট বোন রাশেদা বেগমের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত নকিম উদ্দীনের ছেলে মন্ডু মিয়ার (৫৮) সঙ্গে।
ছোট বোনের জামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের একপর্যায়ে রেশেনা বেগমের সঙ্গে মন্ডু মিয়ার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ঘেংগারু শেখ প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অবৈধ সম্পর্ক বজায় রাখতে রেশেনা ও মন্ডু মিয়া পরিকল্পিতভাবে ১৯৯৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘেংগারু শেখকে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খেতে দেয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘেংগারু শেখ বিষ মেশানো দুধ পান করার পরপরই তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। তখন অভিযুক্তরা ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনার ৩২ বছর পর নিহত ঘেংগারু শেখের চাচাতো ভাই কাবেজ আলী শেখ বাদী হয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাবেজ আলী শেখ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এতদিন আমরা মানুষের ভয়ে মামলা করতে পারিনি। এখন দেশ পরিবর্তন হয়েছে, তাই আমরা মামলা করেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে আমরা তাদের ফাঁসি চাই। সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় ৩২ বছর পর মামলা করেছি।
মামলার বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনার ৩২ বছর মামলা করা হয়েছে। এজাহার আমরা পেয়েছি। আমার টিম এ নিয়ে কাজ করছে।

খায়রুল বাসার, গাইবান্ধা (গোবিন্দগঞ্জ)