দেশে কোনো প্রক্সি শিক্ষক থাকবে না : ববি হাজ্জাজ
‘প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আগামী দু-এক বছরের মধ্যে দেশে কোনো প্রক্সি শিক্ষক থাকবে না’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ সোমবার (১১ মে) সকালে বান্দরবানে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র (পিটিআই) ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বান্দরবানের লামা উপজেলার স্বনামধন্য নুনারবিল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অংহ্লারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র (পিটিআই) পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরা মনি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নুনারবিল মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেটে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কোমলমতি ছাত্ররা। এ সময় তিনি গল্পের ছলে কিছুক্ষণ বিদ্যালয়ের মেজেতে বসে শিশুশিক্ষার্থীদের মুখে বর্ণমালা শোনেন। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এ সময় লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিনসহ অন্যরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও তদারকি, পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে নিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা, শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাদের দাবিগুলো নোট করে নেন।
এরপর শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণসহ প্রতিমন্ত্রী বরাবর কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সৃষ্ট পদসহ জনবল বৃদ্ধি, ছয়তলা ভবন ও কম্পিউটার ল্যাব প্রদানের আশ্বাস দেন। বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনও করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রক্সি শিক্ষক বা বর্গা শিক্ষক কমবেশি গোটা দেশেই ছিল৷ তিন পার্বত্য জেলায় সংখ্যাটার মাত্রা হয়তো আরেকটু বেশি। বর্গা শিক্ষক সমস্যাটা নিরসনে শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিয়েই চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি৷ প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং পাঠদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। প্রযুক্তিগত সেবার আগেই বর্গা শিক্ষক সমস্যাটি সমাধান করা হবে। প্রযুক্তিগত সুবিধায় আগামী দু-এক বছরের মধ্যে প্রক্সি বা বর্গা শিক্ষকের কোনো জায়গায় থাকবে না বাংলাদেশে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের আরও গুরুত্ব দিয়ে লেখাপড়া করাতে পারেন। নুনারবিল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও স্কুলের শৃঙ্খলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিটা প্রাথমিক বিদ্যালয় এমন হলে প্রাথমিক শিক্ষা অনেক এগিয়ে যাবে। এমন গোছানো পরিপাটি স্কুল আমি খুব কমই দেখেছি।
প্রতিমন্ত্রী লামায় পরিদর্শনে আসার খবরে পাশের আলীকদম উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা নিজ উপোজেলার প্রাথমিক শিক্ষার নানা সমস্যা, ইউএনডিপির অর্থায়নে চলা তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগটি গ্রহণ করে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বান্দরবানে ডেকে পাঠান। পরে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান