চট্টগ্রামে ৫৪টি খালের ১২৮ কিলোমিটার খনন করা হবে : জেলা প্রশাসক
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, কৃষির চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে খাল খনন শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে বামনশাহী খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখানকার ৫৪টি খালের ১২৮ কিলোমিটার খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ৬২ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির উপরিভাগ কাটা হয়ে থাকে। এ বছর আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে খননকৃত খালের মাটি যেন ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। তাহলে এসব মাটির যেমন কার্যকর ব্যবহার হবে, তেমনি কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা পাবে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বুধবার (১৩ মে) জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, নারীর জন্য গাড়ির সুফল’বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, হাটহাজারী উপজেলায় দ্রতই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া অল্প কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে কৃষক কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হবে।
চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে ২০ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, খননকৃত খালের মাটি যেন আবার সেই খালে না পড়ে, সে বিষয়টি তদারকি করা হবে। তাছাড়া সিএস বা আরএস জরিপ দেখে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব খাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেগুলোও খনন করা হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, খননের জন্য খাল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে কৃষির গুরুত্ব দেখা হবে। যেসব খালের দ্বারা কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষ সহজ হবে, সেগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সব খালই খনন করা হবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দূর করতে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা পলিথিন না ফেলা-প্রভৃতি বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমের সর্বাত্নক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা সিদ্দীকা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, মো. কামরুজ্জামান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচিসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)