রাজশাহীতে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ মেনে গুটি আম সংগ্রহ শুরু
রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গুটি জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। জেলা প্রশাসন ঘোষিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে বাগান থেকে গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদন এলাকা হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে আমের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে।
শুক্রবার সকালে নগরীর পবা উপজেলার কুকন্ডী ও বুধপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সীমিত পরিসরে আম পাড়ছেন চাষিরা। ব্যবসায়ীরাও বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অধিকাংশ বাগানের গুটি আম এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব না হওয়ায় পুরোদমে আমের বাজার জমে উঠতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনেই আম নামানো হচ্ছে জানিয়ে আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার বানেশ্বর হাটে বিক্রির জন্য কিছু আম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় খুব বেশি আম পাড়া হচ্ছে না।
বুধপাড়া এলাকার আমচাষি আরিফুল ইসলামও জানান, কয়েকটি বাগানে সংগ্রহ শুরু হলেও পুরোপুরি পাকা আমের পরিমাণ এখনও কম, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাড়বে।
অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ ও আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ এবং ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি এবং ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪ বাজারজাতের অনুমতি মিলবে। এরপর ১০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই গৌড়মতি সংগ্রহ করা যাবে। আর কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা সম্ভব।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকারও বেশি।

আবু সাঈদ রনি, রাজশাহী (সদর-গোদাগাড়ী-পবা)