পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা, ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধের দাবি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। জেলার মোট চাহিদা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি হলেও অতিরিক্ত রয়েছে ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খামার ও বাড়িতে চলছে পশুর নিবিড় পরিচর্যা। খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
শিবগঞ্জ উপজেলার খামারি আসরাফুল আলম রশিদ বলেন, পশুখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে যে খাবার ৪০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটি ৬০ টাকা। আবার ২০ টাকার পণ্য এখন ৩০ টাকা। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসরাফুল আলম রশিদ আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ সহযোগিতা করছে, তবে খামারিদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। সরকার ভর্তুকি দিলে দেশীয় খামারিরা দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। এখন যদি ভারত থেকে গরু আমদানি হয়, তাহলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এবং ভবিষ্যতে পশুপালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
আমনুরা এলাকার খামারি শরিফুল ইসলাম জানান, তার খামারে এবার ১৫টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গরু মোটাতাজা করতে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে গরু পালন করা হয়েছে। তবে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। ভারতীয় গরু না এলে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।
জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এ জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য জেলার চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
ডা. শারমিন আক্তার আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এতে স্থানীয় খামারিরা পশুর দাম ভালো পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)