চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠছে কোরবানির পশু, লাভের আশায় খামারিরা
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরাঞ্চলে উন্মুক্ত চারণভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে দেশীয় জাতের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করছেন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা। বছরের বেশির ভাগ সময় চরাঞ্চলের সবুজ ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বড় হয়ে ওঠা এসব গবাদিপশুর চাহিদা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বেড়ে গেছে। খামারিরা বলছেন, ক্ষতিকারক ইনজেকশন বা কৃত্রিম খাবার ব্যবহার না করায় এসব পশুর মাংস সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি।
জানা গেছে, উপজেলার চরকালাইয়া, চর শৌলা, চর ফেডারেশন, বগির চর, চর কচুয়া, নিমদী, ধানদী, তাতেরকাঠি, চর মমিনপুর, চর বাসুদেবপাশা, কারখানা ও তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপসহ ছোট-বড় ২৮টি চরাঞ্চলে উন্মুক্তভাবে গবাদিপশু পালন করা হয়। এসব এলাকার বিশাল প্রাকৃতিক চারণভূমিতে জন্ম নেওয়া ঘাস ও লতাপাতা খেয়েই গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়া বেড়ে ওঠে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় রয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৫টি গরু, ১৭ হাজার ৭৫০টি মহিষ, ৫৮ হাজার ৫৬০টি ছাগল এবং ৬ হাজার ৩৫০টি ভেড়া। এর প্রায় ৬৫ শতাংশই চরাঞ্চলে পালন করা হয়।
খামারিরা জানান, সকালে গবাদিপশু গোয়ালঘর থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিনভর চারণভূমিতে ঘাস ও লতাপাতা খাওয়ার পর বিকেলে রাখালরা সেগুলো আবার গোয়ালে ফিরিয়ে আনেন। এভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশেই পশুগুলো বড় হওয়ায় অতিরিক্ত কৃত্রিম খাবার বা ক্ষতিকারক ইনজেকশনের প্রয়োজন হয় না। এতে উৎপাদন খরচ কমে যায় এবং লাভও বেশি হয়।
স্থানীয় বাজারে ছোট ও মাঝারি গরু ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, মহিষ ১ থেকে ২ লাখ টাকা এবং ছাগল-ভেড়া ৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বড় ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাটে এসে পশু কিনতে শুরু করেছেন।
চরকালাইয়া এলাকার কৃষক মো. জয়নাল ফরাজি বলেন, চরের গরুগুলোকে কোনো ভিটামিন ইনজেকশন দিতে হয় না। বছরে শুধু একবার কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয়। এতে খরচ কম হয় এবং লাভ বেশি থাকে।
চর ব্যারেট এলাকার খামারি সোহরাব হাওলাদার জানান, তিনি প্রতি বছর ১০০ থেকে ১৫০টি মহিষ পালন করেন। সারা বছর চরে ঘাস খাইয়ে বড় করার পর কোরবানির মৌসুমে সেগুলো বিক্রি করা হয়। প্রতি মহিষে তার ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ কালাইয়া বন্দর গবাদিপশুর হাটের ইজারাদার মো. রাজিব আহসান বাবু বলেন, বাউফলসহ ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও বরগুনার চরাঞ্চলে পালন করা গবাদিপশু কালাইয়া হাটে বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এসব পশু কিনে নিয়ে যান।
বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জানান, উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি গবাদিপশু রয়েছে, যার বেশির ভাগই চরাঞ্চলে পালন করা হয়। এ বছর উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ২৫ হাজার ৬৪৬টি, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠায় দেশীয় জাতের এসব গবাদিপশুর চাহিদা দেশজুড়ে বাড়ছে। এতে কৃষক ও খামারিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)