সাভারে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অশ্রুর সাক্ষী হলেন রাষ্ট্রদূত
সাভারে ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধনহারা উন্মাদনা আর শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মহারণ। রোববার (১৯ জুলাই) দিনগত রাতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে বড় পর্দায় এই মেগা ম্যাচ প্রদর্শিত হয়। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে, হাতে পতাকা আর ভুভুজেলার ধ্বনিতে পুরো সম্মেলন কেন্দ্র রূপ নেয় এক টুকরো আর্জেন্টিনায়। ভক্তদের এই বাঁধনহারা ফুটবল উৎসবের সঙ্গী হতে ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। তবে নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনার শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায়, ভক্তদের সাথে একরাশ বেদনার সাক্ষী হতে হলো আর্জেন্টাইন দূতকে।
খেলা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাসুম ইকবালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রিয় দলের দেশের দূতকে কাছে পেয়ে আকাশী-সাদা সমর্থকদের মধ্যে ভিন্নরকম উদ্দীপনা তৈরি হয়।
এর আগে গত ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি দেখতেও ডিআইইউ ক্যাম্পাসে এসেছিলেন রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সে সময় তার সঙ্গে আর্জেন্টিনা থেকে আসা কয়েকজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারও উপস্থিত ছিলেন।
রোববারের ফাইনাল ম্যাচটি বড় পর্দায় উপভোগ করতে রাত ১০টা থেকেই পছন্দের দলের জার্সি, পতাকা ও ভুভুজেলা নিয়ে স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে জড়ো হতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। খেলা শুরুর আগেই দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি।
ভক্তদের এমন অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আপ্লুত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম এবং আর্জেন্টিনার মানুষের আবেগের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য আর মেলবন্ধন আমাকে এখানে টেনে নিয়ে এসেছে। এই অভিন্ন ভালোবাসাই দুই দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে এক বিশেষ বন্ধন।
মাঠের লড়াইয়ে পুরো ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে স্পেন। তবে স্পেনের ভালো খেলা সত্ত্বেও বরাবরের মতোই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে মেরিনো ও কুবার্সির দৃঢ়তায় আর্জেন্টিনার নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া লিওনেল মেসির ফ্রি-কিক থেকে গোলমুখের সামনে বল পেয়েও সিমিওনে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন এবং পরে তার আরেকটি শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায়।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই সম্মেলন কেন্দ্রের চিত্র বদলে যায়। একদিকে স্পেনের সমর্থকদের উল্লাস আর অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নীরব প্রস্থান। প্রিয় দলের পরাজয়ে অনেক আর্জেন্টাইন ভক্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন, তবে দলের প্রতি ভালোবাসা অটুট রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে লিখতে দেখা যায়, জিতলেও আর্জেন্টিনা, হারলেও আর্জেন্টিনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টিনা সমর্থক সাবরিনা সুলতানা বলেন, ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। আজ আর্জেন্টিনা হেরেছে, তাই ভীষণ কষ্ট লাগছে। তারপরও দলের প্রতি সমর্থন আগের মতোই থাকবে।
অন্যদিকে স্পেনের সমর্থক জোবায়ের হাসান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত স্পেন জিতেছে, এটা আমাদের জন্য দারুণ আনন্দের। এটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। অতিরিক্ত সময়ে গোল হওয়ার পর পুরো পরিবেশ বদলে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্তটা দারুণভাবে উদযাপন করছি।

জাহিদুর রহমান