সাভারে এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভারের আনন্দপুর মহল্লায় ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ ও সাভার মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং বিস্ফোরকের উৎস জানতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. নূরুল ইসলাম (৫২) ও মো. সজিব (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মো. নূরুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পূর্ব ভাকুম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিংগাইরের জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং জয়মন্টপ ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মো. সজিব সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা এবং তিনিও নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের কর্মী। এর আগে এই হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
এদিকে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, সমাবেশ চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সমাবেশে আসা সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সোমবার গভীর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশ মঞ্চে আগমন করেন। তারা মঞ্চে ওঠার ঠিক ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে হঠাৎ পুরো সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জেনারেটরের মাধ্যমে কয়েকটি বাতি জ্বালানো হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। আয়োজকরা বিদ্যুৎ অফিসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যেই রাত অনুমান ৯টা ৪২ মিনিটে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চ থেকে মাত্র ১০-১৫ ফুট সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক এবং সাধারণ শ্রোতারা উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের পর সবাই দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করলে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এজাহারে আরও বলা হয়, অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা মূলত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত দূরভীসন্ধিমূলক বোমা হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শাহিন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদত হোসেন (৪০), ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাম্যান মো. মজনু (৪৫) এবং এনপিবি নিউজ মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার মো. সাইফুল ইসলাম (২৫)। তাদের উদ্ধার করে সাভারের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (তদন্ত কমিটির প্রধান) জাহাঙ্গীর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা, বিস্ফোরক তৈরির প্রস্তুতি, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক মজুত এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জাহিদুর রহমান