গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় রহস্যজনকভাবে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত অহিদা আক্তার শিখা (২১) উপজেলার পরকট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোরশেদ আলমের স্ত্রী।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে শিখাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার স্বামী। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমা আক্তার শান্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত গৃহবধূর গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি ঘিরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিখার বাবার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর ডল্টা গ্রামে। তার বাবা আব্দুল মান্নান মোল্লা। প্রায় সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে পূর্ব শোশালিয়া গ্রামের মোরশেদ আলমের সঙ্গে শিখার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে শিখাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
চাটখিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকান্দার মোল্লা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মোরশেদ আলমকে আটক করা হয়েছে।

আবদুল মোতালেব, নোয়াখালী (চাটখিল-সেনবাগ-সোনাইমুড়ি)