বরখাস্ত উপ-খাদ্য পরিদর্শক কারাগারে
পটুয়াখালীর বাউফলে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সাময়িক বরখাস্তকৃত উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. অলিউল্লাহ ওরফে অলিকে (৪৪) জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ মে) পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন কবির এ আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আসিব খান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো অলিউল্লাহ বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও কমেন্ট করে সম্মানহানির অভিযোগে গত ১০ মে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ শারীফ তালুকদার। মামলায় অলিউল্লাহকে একমাত্র আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শারমিন জাহান অভিযোগ আমলে নিয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন। প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে গত ১৪ মে বাউফল থানায় মামলাটি রুজু হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার পটুয়াখালী চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি অলিউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ‘বড় ডালিমার অপরাধ’, ‘আমার কচুয়া গ্রাম’, ‘মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম বাউফল উপজেলা’ এবং তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দিয়ে বাদীসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানহানি করে আসছিলেন। এসব মানহানিকর পোস্ট দিতে নিষেধ করা হলে তিনি বাদীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী শারীফ তালুকদার বলেন, ওই ফেসবুক আইডিগুলো থেকে পুলিশ, সাংবাদিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছিল। নিষেধ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হতো। তাই বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে তরমুজের ট্রলার আটকে লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ২৬ মার্চ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অলিউল্লাহ। ওই ঘটনায় তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপ-খাদ্য পরিদর্শকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় জামিনে আছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকির হোসেন জানান, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। মামলা চলমান থাকা পর্যন্ত এই বরখাস্ত আদেশ বহাল থাকবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)