শিক্ষামন্ত্রীর সাথে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের বৈঠক
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যাবসা ও বাণিজ্য দপ্তরের আন্তর্জাতিক শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন শাখার প্রধান জোনাথন লেজারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গতকাল বুধবার (২১ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডনস্থ কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬ এর সাইড লাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বৈঠকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দক্ষতা ও কারিগরি, এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ‘পিয়ারসন-ক্যামব্রিজ পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন’র জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে তুলে ধরেন। বিশেষ করে তারা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, চাকরির উপযোগী করে তোলা, শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার করা, চাহিদা ও বাজারভিত্তিক পাঠ্যক্রম, এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব জাতীয় চাহিদা ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার অভিজ্ঞতার বিষয় তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষই শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের যোগ্যতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরপর মন্ত্রীর সাথে ক্যানভা কে-১২ এডুকেশনের গ্লোবাল লিড অ্যান্ডি শ’র নেতৃত্বাধীন ক্যানভার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন। বৈঠকে ক্যানভা কর্মকর্তারা ডিজিটাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করা, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ভিজ্যুয়াল যোগাযোগ উন্নত করার মাধ্যমে ক্যানভার শিক্ষা সেবা কীভাবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহায়তা করতে পারে সে বিষয়ে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
এরপর শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক চলাকালেই ক্যানভাকে বাংলাদেশের দুটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্যানভার প্রিমিয়াম শিক্ষা সেবা ব্যবহার শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে এই বিনামূল্যের প্রিমিয়াম সেবা দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সম্প্রসারিত হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে। তিনি বলেন, সরকারের একটি বিশদ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যেখানে শিক্ষা আরও সৃজনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক