রাশিয়ার হুঁশিয়ারির পরও ইউক্রেনকে ‘১০০ শতাংশ’ সমর্থনের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের
রাশিয়ার হুঁশিয়ারির পরও ইউক্রেনকে ‘১০০ শতাংশ’ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাশিয়ার সতর্কবার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনের সময়ে যুক্তরাজ্য পাশে থাকবে এবং দেশটির প্রতি ব্রিটিশ সমর্থনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। খবর বিবিসির।
বার্নহ্যাম বলেন, আমরা শুধু ভালো সময়ে পাশে থাকা বন্ধু নই। ইউক্রেনের প্রয়োজনের সময়ে আমরা সেখানে থাকব এবং এটি পরিবর্তন হবে না।
এর আগে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, ব্রিটেন ‘ইউক্রেন সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে আরও উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে’। রাশিয়া আরও সতর্ক করে বলেছিল, সংঘাতে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটিকে তত ‘বেশি মূল্য’ দিতে হবে।
সম্প্রতি রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইউক্রেনের হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মস্কো এই হুঁশিয়ারি দেয়। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলায় তেল শোধনাগার ও বড় শিল্প ও লজিস্টিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই ব্রিটেনের অবস্থান। এই নীতি তার পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রীদের সময়ও ছিল এবং তার নেতৃত্বেও তা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাশিয়া এর আগেও ইউক্রেনকে ড্রোন প্রযুক্তি ও স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছে। তবে এবারও মস্কো কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি ইউক্রেনকে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণও দিয়ে আসছে।
গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহ্যাম তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে কিয়েভ যান। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটিশ সমর্থন অব্যাহত থাকার বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইউক্রেনে ৪৩৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর এক মাসে সর্বোচ্চ।
মঙ্গলবার রুশ হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পেচেনিহি গ্রামে নিহত হয়েছেন ১০ জন। সুমি, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মস্কো অঞ্চলেও গত দুই দিনে শত শত ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহৃত একটি বাসস্টপে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। আইএইএ জানিয়েছে, এতে পারমাণবিক নিরাপত্তা বা স্থাপনার ওপর কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপে সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনার কাছে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক