কোরবানির হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, অনলাইনেও চলছে কেনাবেচা
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরেও কোরবানির পশুর হাটগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। গতকাল শনিবার (২৩ মে) উপজেলার জিনদপুর ও শ্রীঘর পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রতিটি হাটে যেমন ভিড় বাড়ছে, তেমনি হাটের পাশাপাশি অনলাইনেও চলছে সমানে পশু কেনাবেচা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার নবীনগরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৬টি পশু। তবে স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা রয়েছে ১৮ হাজার ৪৬৯টি পশুর। ফলে চাহিদার তুলনায় ৩৮৭টি পশু বেশি রয়েছে এবার। স্থানীয় খামারিরা দীর্ঘ সময় ধরে যত্নে পরিচর্যা করে এসব পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন।
খামারি আবুল হোসেন জানান, তারা কয়েকজন খামারি মিলে এবার ৪৫টি মহিষ লালন-পালন করেছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানির পশুগুলোকে হালাল রাখতে তারা নিজস্ব জমিতে লাগানো বিচালি ও ঘাসের পাশাপাশি খইল, ভুসি ও ভুট্টার গুঁড়া খাইয়েছেন। অবৈধ পথে ভারত থেকে ঈদের আগে পশু আমদানি না হলে তারা এবার ভালো লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
হাটে আসা কয়েকজন পশু ব্যবসায়ী জানান, বাজারে এবার এখনও ভারতীয় গরু না আসায় তারা বেশ স্বস্তিতে আছেন। তবে গোখাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে গতবারের তুলনায় এবার গরু-মহিষের দাম কিছুটা বেশি।
আলফে সানি নামে একজন ক্রেতা হাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, এবার কোরবানির হাটগুলোতে ছোট আকারের পশুর তুলনায় বড় বড় গরু ও মহিষের সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে। ঈদের এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি থাকায় ব্যবসায়ীরা পশুর দাম একটু বাড়িয়ে চাচ্ছেন। তবে আশা করা যাচ্ছে, আগামী হাটগুলোতে পশুর আমদানি আরও বাড়লে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
নবীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নবীনগরের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে। এখানকার স্থায়ী ও মৌসুমি খামারিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অনেকে বাড়িতে কোরবানির জন্য পশু পালন করেছেন। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত থাকায় এবার কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

কাউছার আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর)