রাজধানীর কাঁচাবাজারে ক্রেতা সংকট, সবজির দামও বাড়তি
পবিত্র ঈদুল আজহার পরদিন ঢাকা ফাঁকা। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষগুলো গ্রামে থাকায় এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে। ঈদের পরদিন বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা নেই। বিক্রেতারা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করছেন। ক্রেতা ও সবজি সরবরাহ কমের প্রভাবে সবজির দাম এখন চড়া।
রাজধানীর কারওয়ানবাজার, কাপ্তানবাজারসহ যাত্রাবাড়ী বাজার আজ শুক্রবার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকান বন্ধ। ঈদের ছুটিতে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা গ্রামে থাকায় আড়তসহ খুচরা দোকান তেমন খোলেনি। তবে যে কয়েকটি দোকান খোলা রয়েছে, সেখানে ক্রেতার উপস্থিতি হাতেগোনা।
কারওয়ানবাজার সবজি বিক্রেতারা মোতালেব বলেন, ক্রেতা নেই বললেই চলে। যারা আছেন, তারা কেবল অতি প্রয়োজনীয় দু-একটি জিনিস কিনছেন। মানুষ ঢাকা ফিরলে বাজার জমজমাট হবে। একই কথা বলেন কাপ্তানবাজারের বিক্রেতা ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, আজ ঈদের পরদিন। ঈদের আমেজ চলছে। কয়েকদিন মানুষ মাংস খেয়েই দিন পাড় করবে মানুষ। সবজিতে চাপ এখন পরবে না। যারা সবজি খাবে তারা আগেই মজুদ করে রেখেছে। এখন বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে, তারা ফিরলে বাজার জমে ওঠবে। যাত্রবাড়ী বাজারের সবজি ক্রেতা হুমায়ুন বলেন, কয়েকটি সবজির দোকান খোলা। সবজিগুলো ফ্রেস না। মনে হচ্ছে অনেক আগের কেনা। এরপর আবার দামও অনেক চাচ্ছে।
বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজির দাম এখন কিছুটা বাড়তি। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন এখন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৭০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকার বেশিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লাউ প্রতি পিজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা। চাল কুমরা প্রতি পিজ ৫০ টাকা। টমেটো ১২০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজিও কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বাজারভেদে সবজির দামের ভিন্নতা রয়েছে।
অন্যদিক মাছ ও মাংসের বাজারে নেই ক্রেতা। কোরবানির কারণে ঘরে ঘরে মাংসের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় মাংসের দোকানে ক্রেতাই নেই। বাজারে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম সামান্য কমেছে। তবে মাছের দাম বাজারে বাড়তি। ইলিশ, রুই, কাতলা, পাঙাশসহ সব মাছই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক